কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় একটি বিয়েবাড়িতে ‘গেটের টাকা’কে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ মুহূর্তেই আনন্দকে পরিণত করেছে বিষাদে। হাসি-আনন্দের সেই আয়োজন পরিণত হয় আতঙ্ক, কান্না আর ক্ষতির গল্পে।
গতোকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ‘গেটের টাকা’ দেওয়া-নেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া সামান্য বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে রূপ নেয় সংঘর্ষে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হন।
আহতরা হলেন,বরপক্ষের রাসেল মল্লিক (২৫), শফিক হাওলাদার (২৬), শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনেপক্ষের জামাল হাওলাদার (৪০)। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাউফলে পাঠানো হয়।

ঘটনায় বরপক্ষের দাবি, প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক মানুষের জন্য প্রস্তুত করা খাবার নষ্ট হয়ে যায়, ভাঙচুর হয় আসবাবপত্র, এমনকি নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও উঠেছে।
তবে এই ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী দিকটি হলো ৯০ বছরের বৃদ্ধা বকুল বিবির উপস্থিতি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধাকে দেখা যায় নষ্ট হতে বসা খাবারের পাশে বসে পাহারা দিতে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তিনি সেখানে বসে ছিলেন। কারণ, এটি তার অসুস্থ ছোট ভাই আফতার মল্লিকের ছেলের বিয়ে,সংঘর্ষে সবকিছু ভেস্তে যেতে দেখে তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারেননি।
অথচ যেখানে থাকার কথা ছিল আনন্দ, গান আর শুভেচ্ছা,সেখানে এক বৃদ্ধা মায়ের এই নীরব পাহারা যেন পুরো ঘটনার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।
কনের বাবা সাগর মিয়া বলেন, “ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।” অন্যদিকে বরের পরিবার দাবি করছে, তারা হামলার শিকার হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষই এখন সমঝোতার আশায় রয়েছে।
তবে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা শুধু একটি অনুষ্ঠান নষ্ট করেনি,এটি এলাকার সামাজিক মূল্যবোধকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বকুল বিবির নীরব পাহারা যেন পুরো গ্রামের সবাইকে মনে করিয়ে দেয়। মানবিকতার কাছে কোনো রীতি বা অর্থের মূল্যই বড় নয়।
দশমিনা থানার ওসি (তদন্ত) ইমাম মেহেদী জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



