ঢাকাSunday , 29 March 2026
  • অন্যান্য
  1. Desh News
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও অপরাধ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উপজেলা সংবাদ
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জেলা সংবাদ
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. নারী ও শিশু
  13. পরিবেশ
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন

অপপ্রচার, গ্রেফতার ও পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত গাছা: আইনি লড়াইয়ে বিএনপি নেতা

রাহুল নামে এক চিহ্নিত অপরাধীর গ্রেফতার, তাকে নির্দোষ প্রমাণে পরিবারের ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলন এবং এর জেরে এক বিএনপি নেতাকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, সব মিলিয়ে গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিভ্রান্তি। এ ঘটনায় নিজেকে লক্ষ্যবস্তু দাবি করেছেন গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন খান।

জানা গেছে, সম্প্রতি গাছা থানা পুলিশ রাহুল খান (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চোরাই মালামালসহ গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়, তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, রাহুল ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
রাহুলের গ্রেফতারের পর তার পরিবার তাকে নির্দোষ দাবি করে গত ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খান প্রভাব খাটিয়ে এবং অর্থের বিনিময়ে পুলিশকে দিয়ে রাহুলকে গ্রেফতার করিয়েছেন। একইসঙ্গে দাবি করা হয়, ফারুক খান তাদের পরিবারের সম্মানহানি করতে ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় রাহুলের মা আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন, যার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ পুনরায় তুলে শনিবার (২৮ মার্চ) আরেকটি সংবাদ সম্মেলনও করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন খান। তিনি দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার ভাষ্য, একটি বাড়ি দখলসংক্রান্ত স্থানীয় বিরোধে তিনি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ন্যায়সংগত অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই এই অপপ্রচার শুরু হয়।

ফারুক হোসেন খান জানান, গত ১৪ মার্চ দিবাগত রাতে ফেসবুকে “সত্যের সন্ধানে বাংলাদেশ” ও “সত্য তোলে ধরা” নামীয় পেইজসহ বিভিন্ন আইডি থেকে তার নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও স্পর্শকাতর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় তিনি ১৫ মার্চ গাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, এসব অপপ্রচারের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।


গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একজন অপরাধীকে নির্দোষ প্রমাণে সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে অপরাধ দমনে পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও মনোবল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ওসি আরও বলেন, পুলিশ সর্বদা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাই অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পরিবর্তে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা উচিত।
তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সত্য ও যাচাই-বাছাই করা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তারা যাতে অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”

ফারুক হোসেন খান বলেন, “আমি কোনো অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে পরিকল্পিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পাবে।

সর্বশেষ - জাতীয়