নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঢাকার সাভারে মাদক কারবারিদের নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারি শামীম হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক ও এক গাড়িচালক। শুক্রবার বিকেলে পৌর এলাকার রাজাসন মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন দেশ টিভির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তাইফুর রহমান তুহিন, এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন, দেশ টিভির ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুম এবং গাড়িচালক জয়নাল আবেদীন। আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, মাদক কারবারিদের নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশ্যে দেশ টিভির একটি টিম শুক্রবার সাভারে আসে। তাদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন। তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা রাজাসন এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজে যান, যা শামীম হোসেনের মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, গ্যারেজ থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার পরপরই শামীমের সহযোগীরা তাঁদের পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। হামলায় সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিনের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁর পিঠ ও কোমরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। এ ছাড়া সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন ডান চোখে গুরুতর আঘাত পান।
হামলাকারীরা সংবাদকর্মীদের ব্যবহৃত গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে। পাশাপাশি তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে আহতদের একটি রিকশা গ্যারেজে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা জানান, খবর পেয়ে তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামীম হোসেন সাভারের চিহ্নিত মাদক কারবারি। দীর্ঘদিন ধরে রাজাসন এলাকায় একটি রিকশা গ্যারেজকে কেন্দ্র করে তিনি মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছেন। এর আগে একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি র্যাব তাঁর গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শামীম হোসেন একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাকে এবং হামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’


















